Hindu Dormo

রবিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩

সারদা দেবী Biographi

Holy mother sarada.jpg

জীবনী
সারদা দেবী
সারদা দেবী
জন্ম ডিসেম্বর ২২, ১৮৫৩
জন্মস্থান জয়রামবাটী, বাঁকুড়া, বাংলা প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
পূর্বাশ্রমের নাম অপ্রযোজ্য
মৃত্যু জুলাই ২০, ১৯২০ (৬৬ বছর)
মৃত্যুস্থান উদ্বোধন কার্যালয় ভবন (মায়ের বাড়ি) কলকাতা, বাংলা প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত (অধুনা পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)
গুরু রামকৃষ্ণ পরমহংস
দর্শন ভক্তি
সম্মান শ্রীশ্রীমা
উক্তিযদি শান্তি চাও, মা, কারও দোষ দেখো না। দোষ দেখবে নিজের। জগৎকে আপন করে নিতে শেখ। কেউ পর নয়, মা, জগৎ তোমার।


জন্ম ও পরিবার

১৮৫৩ সালের ২২ ডিসেম্বর (বাংলা ১২৬০ সনের ৮ পৌষ, হিন্দু পঞ্জিকা অনুসারে, অগ্রহায়ণ কৃষ্ণাসপ্তমী তিথি[২]) পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রাম জয়রামবাটীর এক দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারে সারদা দেবীর জন্ম হয়। তাঁর পিতা রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায় ও মাতা শ্যামাসুন্দরী দেবী অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ ছিলেন। সারদা দেবীর পিতৃকূল মুখোপাধ্যায়-বংশ পুরুষানুক্রমে রামের উপাসক ছিলেন।[৩] সারদা দেবী ছিলেন তাঁদের জ্যেষ্ঠা কন্যা তথা প্রথম সন্তান।[৪] জন্মের পর প্রথমে সারদা দেবীর নাম রাখা হয়েছিল "ক্ষেমঙ্করী"। রাশ্যাশ্রিত নাম রাখা হয়েছিল "ঠাকুরমণি"।[৫] পরে "ক্ষেমঙ্করী" নামটি পালটে "সারদামণি" রাখা হয়।[৬] রামচন্দ্র মুখোপাধ্যায় কৃষিকাজ ও পুরোহিতবৃত্তি করে জীবিকানির্বাহ করতেন এবং তিন ভাইকে প্রতিপালন করতেন। দরিদ্র হলেও রামচন্দ্র ছিলেন পরোপকারী ও দানশীল ব্যক্তি।[৭] কথিত আছে, সারদা দেবীর জন্মের আগে রামচন্দ্র ও শ্যামাসুন্দরী উভয়েই দিব্যদর্শনে দেখেছিলেন যে মহাশক্তি তাঁদের কন্যারূপে জন্ম নিতে চলেছেন।[৪] সারদা দেবীর জন্মের পর রামচন্দ্র ও শ্যামাসুন্দরীর কাদম্বিনী নামে এক কন্যা এবং প্রসন্নকুমার, উমেশচন্দ্র, কালীকুমার, বরদাপ্রসাদ ও অভয়চরণ নামে পাঁচ পুত্রের জন্ম হয়।[৮]
বাল্যকাল
বাল্যকালে সাধারণ গ্রামবাসী বাঙালি মেয়েদের মতো সারদা দেবীর জীবনও ছিল অত্যন্ত সরল ও সাদাসিধে। ঘরের সাধারণ কাজকর্মের পাশাপাশি ছেলেবেলায় তিনি তাঁর ভাইদের দেখাশোনা করতেন, জলে নেমে পোষা গোরুদের আহারের জন্য দলঘাষ কাটতেন, ধানখেতে মুনিষদের (খেতমজুর) জন্য মুড়ি নিয়ে যেতেন, প্রয়োজনে ধান কুড়ানোর কাজও করেছেন। সারদা দেবীর প্রথাগত বিদ্যালয় শিক্ষা একেবারেই ছিল না। ছেলেবেলায় মাঝে মাঝে ভাইদের সঙ্গে পাঠশালায় যেতেন। তখন তাঁর কিছু অক্ষরজ্ঞান হয়েছিল। পরবর্তী জীবনে কামারপুকুরে শ্রীরামকৃষ্ণের ভ্রাতুষ্পুত্রী লক্ষ্মী দেবী ও শ্যামপুকুরে একটি মেয়ের কাছে ভাল করে লেখাপড়া করা শেখেন। ছেলেবেলায় গ্রামে আয়োজিত যাত্রা ও কথকতার আসর থেকেও অনেক পৌরাণিক আখ্যান ও শ্লোক শিখেছিলেন।[৯] ছেলেবেলায় পুতুলখেলার সময় লক্ষ্মী ও কালীর মূর্তি গড়ে খেলাচ্ছলে পূজা করতেন। বলতেন, ছোটোবেলা থেকেই মহামায়ার ধ্যান অভ্যাস করেন তিনি। এও কথিত আছে, সেই সময় থেকেই তাঁর বিবিধ দিব্য দর্শন ও অভিজ্ঞতা হত।[৪] ছোটোবেলার কথা বলতে গিয়ে সারদা দেবী বলেছিলেন, "ছেলেবেলায় দেখতুম, আমারই মতো মেয়ে সর্বদা আমার সঙ্গে সঙ্গে থেকে আমার সকল কাজের সহায়তা করত-আমার সঙ্গে আমোদ-আহ্লাদ করত; কিন্তু অন্য লোক এলেই আর তাকে দেখতে পেতুম না। দশ এগারো বছর পর্যন্ত এরকম হয়েছিল।"[১০]

বাল্যকাল

বাল্যকালে সাধারণ গ্রামবাসী বাঙালি মেয়েদের মতো সারদা দেবীর জীবনও ছিল অত্যন্ত সরল ও সাদাসিধে। ঘরের সাধারণ কাজকর্মের পাশাপাশি ছেলেবেলায় তিনি তাঁর ভাইদের দেখাশোনা করতেন, জলে নেমে পোষা গোরুদের আহারের জন্য দলঘাষ কাটতেন, ধানখেতে মুনিষদের (খেতমজুর) জন্য মুড়ি নিয়ে যেতেন, প্রয়োজনে ধান কুড়ানোর কাজও করেছেন। সারদা দেবীর প্রথাগত বিদ্যালয় শিক্ষা একেবারেই ছিল না। ছেলেবেলায় মাঝে মাঝে ভাইদের সঙ্গে পাঠশালায় যেতেন। তখন তাঁর কিছু অক্ষরজ্ঞান হয়েছিল। পরবর্তী জীবনে কামারপুকুরে শ্রীরামকৃষ্ণের ভ্রাতুষ্পুত্রী লক্ষ্মী দেবী ও শ্যামপুকুরে একটি মেয়ের কাছে ভাল করে লেখাপড়া করা শেখেন। ছেলেবেলায় গ্রামে আয়োজিত যাত্রা ও কথকতার আসর থেকেও অনেক পৌরাণিক আখ্যান ও শ্লোক শিখেছিলেন।[৯] ছেলেবেলায় পুতুলখেলার সময় লক্ষ্মী ও কালীর মূর্তি গড়ে খেলাচ্ছলে পূজা করতেন। বলতেন, ছোটোবেলা থেকেই মহামায়ার ধ্যান অভ্যাস করেন তিনি। এও কথিত আছে, সেই সময় থেকেই তাঁর বিবিধ দিব্য দর্শন ও অভিজ্ঞতা হত।[৪] ছোটোবেলার কথা বলতে গিয়ে সারদা দেবী বলেছিলেন, "ছেলেবেলায় দেখতুম, আমারই মতো মেয়ে সর্বদা আমার সঙ্গে সঙ্গে থেকে আমার সকল কাজের সহায়তা করত-আমার সঙ্গে আমোদ-আহ্লাদ করত 


বিবাহ

সারদা দেবীর স্বামী ও আধ্যাত্মিক গুরু শ্রীরামকৃষ্ণ
১৮৫৯ সালের মে মাসে, সেকালে প্রচলিত গ্রাম্য প্রথা অনুসারে মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই রামকৃষ্ণ পরমহংসের সঙ্গে তাঁর বিবাহ সম্পন্ন হয়। শ্রীরামকৃষ্ণের বয়স তখন তেইশ। এই সময় শ্রীরামকৃষ্ণ কঠোর ব্রহ্মচর্য অনুশীলন করছিলেন। তাই তাঁর মা ও দাদারা মনে করেন এই বিবাহের ফলে তাঁর সাংসারিক ক্ষেত্রে মন স্থিত হবে। বলা হয়, শ্রীরামকৃষ্ণই তাঁর মাকে পাত্রীর সন্ধান দিয়ে বলেছিলেন – তোমরা বৃথাই পাত্রী খুঁজে বেড়াচ্ছ। জয়রামবাটীর রামচন্দ্র মুখুজ্যের বাড়ি যাও। সেখানেও চালকলা বাঁধা (পাত্রী স্থির করা) আছে।[১১]
বিবাহের পরেও সারদা দেবী তাঁর পিতামাতার তত্ত্বাবধানেই রইলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ ফিরে গেলেন দক্ষিণেশ্বরে।[১১] এরপর চোদ্দো বছর বয়সে প্রথম সারদা দেবী স্বামী সন্দর্শনে কামারপুকুরে আসেন। এই সময় তিনি যে তিন মাস শ্রীরামকৃষ্ণের সঙ্গে বাস করেছিলেন, তখনই ধ্যান ও অধ্যাত্ম জীবনের প্রয়োজনীয় নির্দেশ তিনি পান তাঁর স্বামীর থেকে।[১২] আঠারো বছর বয়সে তিনি শোনেন, তাঁর স্বামী পাগল হয়ে গেছেন। আবার এও শোনেন যে তাঁর স্বামী একজন মহান সন্তে রূপান্তরিত হয়েছেন।[১৩] তখন তিনি দক্ষিণেশ্বরে শ্রীরামকৃষ্ণকে দেখতে আসার সিদ্ধান্ত নিলেন।[১২] পদব্রজে দক্ষিণেশ্বরে আসতে গিয়ে তিনি অত্যন্ত অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং কথিত আছে কালীর মতো ঘোর কৃষ্ণবর্ণা এক নারী দিব্যদর্শনে তাঁকে সুস্থ হয়ে ওঠার অভয়বাণী শোনান।[১৪

দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়িতে

“নহবত”-এর দক্ষিণভাগ। দক্ষিণেশ্বরে এই বাড়িটির একতলাতেই থাকতেন সারদা দেবী।
“নহবত”-এর একতলায় সারদা দেবীর ছোটো ঘরটি। এখন এটি একটি মন্দির।
১৮৭২ সালে দক্ষিণেশ্বরে আসার পর তাঁর ভয় ও সন্দেহ অপসারিত হয়। তিনি বুঝতে পারেন, তাঁর স্বামী সম্পর্কে যে সব গুজবগুলি রটেছিল তা কেবলই সংসারী লোকের নির্বোধ ধারণামাত্র। তিনি দেখলেন, শ্রীরামকৃষ্ণ তখন সত্যিই এক মহান আধ্যাত্মিক গুরু।[১৫] দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে এসে নহবতের একতলার একটি ছোটো ঘরে তিনি বাস করতে শুরু করলেন। ১৮৮৫ সাল অবধি তিনি দক্ষিণেশ্বরেই ছিলেন। তবে মাঝে মাঝে তাঁর গ্রাম জয়রামবাটিতে গিয়েও স্বল্প সময়ের জন্য বাস করতেন।[১৫]
এই সময় সারদা দেবী ও দিব্য মাতৃকাকে অভিন্ন জ্ঞান করে শ্রীরামকৃষ্ণ ষোড়শী পূজার আয়োজন করেন। কালীর আসনে বসিয়ে পুষ্প ও উপাচার দিয়ে শ্রীরামকৃষ্ণ পূজা করেন তাঁকে। অন্য সকল নারীর মতো সারদা দেবীকেও তিনি দেবীর অবতার বলে মনে করতেন। এই কারণে তাঁদের বৈবাহিক জীবনও ছিল এক শুদ্ধ আধ্যাত্মিক সঙ্গত।[১৬][১৭][১৮] স্বামী সারদানন্দের মতে, তাঁদের বিবাহ হয়েছিল বিশ্বে আদর্শ দাম্পত্য সম্পর্কের এক নজির স্থাপনের উদ্দেশ্যেই।[১৯]
সারদা দেবীর কথা থেকে জানা যায়, বিবাহিত জীবনে শ্রীরামকৃষ্ণ কখনই তাঁকে ‘তুই’ সম্বোধন করেননি। রূঢ় ব্যবহার দূরে থাক, কখনই কোনো রূঢ় বাক্য নিজের স্ত্রীর সম্মুখে উচ্চারণ করেননি তিনি।[২০] সারদা দেবীকেই মনে করা হয় তাঁর প্রথম শিষ্য।
দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি
শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে আধ্যাত্মিক জীবনযাপনের প্রয়োজনীয় নির্দেশ দান করেন। এগুলির মধ্যে প্রধান ছিল জপ ও ধ্যানের নির্দেশিকা। প্রতিদিন রাত তিনটের সময় ঘুম থেকে উঠতেন এবং সর্বদা ‘লজ্জাপটাবৃতা’ ছিলেন বলে সূর্যোদয়ের পূর্বেই নির্জনে গঙ্গাস্নান সম্পন্ন করতেন।[২১] বেলা একটার আগে যতক্ষণ না লোকজনের আনাগোনা বন্ধ হত, তিনি বাইরে বের হতেন না। তিনি এতটাই নিঃশব্দে এবং অলক্ষিত হয়ে বাস করতেন যে মন্দিরের ম্যানেজার একবার বলেছিলেন, “আমরা জানতাম তিনি এখানে বাস করেন। কিন্তু কোনোদিন চোখে দেখিনি” [২২] কথিত আছে, শ্রীরামকৃষ্ণ দিব্যদৃষ্টিতে দেখেছিলেন যে তাঁর আধ্যাত্মিক প্রচারকার্য পরবর্তীকালে চালিয়ে নিয়ে যাবেন সারদা দেবী। সেই কারণে তিনি তাঁকে মন্ত্রশিক্ষা দেন এবং মানুষকে দীক্ষিত করে আধ্যাত্মিক পথে পরিচালিত করতে পারার শিক্ষাও দান করেন।[২৩] শেষ জীবনে যখন শ্রীরামকৃষ্ণ গলার ক্যানসারে আক্রান্ত তখন সারদা দেবীই স্বামীর সেবা এবং স্বামী ও তাঁর শিষ্যদের জন্য রন্ধনকার্য করতেন। কথিত আছে, ১৮৮৬ সালের অগস্ট মাসে শ্রীরামকৃষ্ণের মৃত্যুর পর বৈধব্যের চিহ্ন হিসেবে হাতের বালা খুলে ফেলতে গেলে তিনি স্বামীর দিব্যদর্শন পান। এই দর্শনে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে বলেন, তিনি মারা যাননি, কেবল এক ঘর থেকে আর এক ঘরে গেছেন।[২৪] সারদা দেবী বলেছিলেন, যতবারই তিনি বিধবার বেশ ধারণ করতে গিয়েছিলেন, ততবারই দিব্যদর্শনে শ্রীরামকৃষ্ণ তাঁকে নিরস্ত করেন।[২৫] যাই হোক, শ্রীরামকৃষ্ণের মৃত্যুর পর তাঁকে কেন্দ্র করে অঙ্কুরিত ধর্ম আন্দোলনে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন সারদা দেবী






এর দ্বারা পোস্ট করা Unknown এই সময়ে ১২:৪৯ PM 1 টি মন্তব্য:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন

রবিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩



এর দ্বারা পোস্ট করা Unknown এই সময়ে ৪:১৩ PM কোন মন্তব্য নেই:
এটি ইমেল করুনএটি ব্লগ করুন!X-এ শেয়ার করুনFacebook-এ শেয়ার করুনPinterest এ শেয়ার করুন
হোম
এতে সদস্যতা: মন্তব্যসমূহ (Atom)

ব্লগ সংরক্ষাণাগার

  • ▼  2013 (2)
    • ▼  ফেব্রুয়ারি (2)
      • সারদা দেবী Biographi

আমার সম্পর্কে

Unknown
আমার সম্পূর্ণ প্রোফাইল দেখুন
ছবি উইন্ডো থিম. Blogger দ্বারা পরিচালিত.